Visio AI হল Vision Labs-এর তৈরি একটা ফটো এডিটর, iOS আর Android দুটোতেই পাওয়া যায়। কাজের ধরনটা সরল: আপনি একটা সেলফি দেন, অ্যাপ সেই মুখেই অন্য একটা লুক বসিয়ে ফটোরিয়ালিস্টিক ছবি বানিয়ে দেয়।
১০০-র বেশি চুলের স্টাইল আছে - বব, পিক্সি, ব্যাংস, লেয়ার, বেণি, খোঁপা, উলফ কাট, শ্যাগ। প্রায় ২০টা চুলের রং - বালায়াজ, হাইলাইটস, ব্লন্ড, কপার, অম্ব্রে, চেরি রেড। এর বাইরে পোশাক ট্রাই-অন, মেকআপ, ব্যাকগ্রাউন্ড রিমুভাল আর এআই হেডশট।
অ্যাপ ব্যবহার করতে টাকা লাগে না। বেশি ব্যবহার আর অতিরিক্ত ফিচার চাইলে Visio Pro সাবস্ক্রিপশন নেওয়া যায়, তবে সেটা ঐচ্ছিক।
কারণ চুল নিয়ে সিদ্ধান্তগুলো একমুখী। কাঁধ পর্যন্ত চুল থেকে চিবুক-ববে যেতে এক ঘণ্টা লাগে; ফিরতে প্রায় এক বছর, কারণ চুল মাসে এক থেকে দেড় সেন্টিমিটার বাড়ে।
রঙের ক্ষেত্রে খরচটা টাকায় মাপা যায়। কলকাতায় গ্লোবাল কালার ₹২,৫০০ থেকে ₹৪,০০০, হাইলাইটস ₹৩,৫০০ থেকে, বালায়াজ ₹৫,০০০ থেকে, কেরাটিন ₹৪,০০০ থেকে ₹৬,০০০। গাঢ় চুল থেকে ব্লন্ড হতে চার থেকে ছয়টা সেশন লাগে - মানে টাকাটাও কয়েক গুণ।
Visio সিদ্ধান্তটাকে এমন জায়গায় সরিয়ে আনে যেখানে মত বদলানো বিনামূল্যে। পছন্দ না হলে ছবিটা মুছে দিন, ব্যস।
ভালো প্রিভিউয়ের জন্য ভালো ইনপুট দরকার। সোজা ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে, ভালো আলোয়, মুখ পুরো দেখা যায় এমন একটা ছবি নিন। জানলার পাশে দাঁড়ালে সবচেয়ে ভালো হয়। চশমা, টুপি বা মুখের সামনে চুল থাকলে ফল খারাপ হয়।
প্রথমে কয়েকটা স্টাইল দেখুন, তারপর পছন্দের দুই-তিনটে বেছে নিন। সেই স্ক্রিনশটগুলো সেলুনে নিয়ে যান। স্টাইলিস্টকে 'একটু ছোট' বলার চেয়ে ছবি দেখানো অনেক বেশি নির্ভুল।
সেলুনে গিয়ে জিজ্ঞেস করুন এই লুকটা আপনার চুলের টেক্সচার আর ঘনত্বে কতটা সম্ভব, আর কতদিন পরপর ফিরে আসতে হবে। এই দুটো প্রশ্নই বেশিরভাগ আফসোস আটকে দেয়।
না। Visio-র এআই পোর্ট্রেট আধার, প্যান কার্ড বা ভারতীয় পাসপোর্টের জন্য বৈধ নয়। সরকারি নথিতে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে তোলা আসল ছবি লাগে, এবং এআই দিয়ে তৈরি বা বদলানো ছবি সেখানে গ্রহণযোগ্য নয়।
হেডশট ফিচারটা সিভি, লিঙ্কডইন প্রোফাইল, কোম্পানির ওয়েবসাইট বা কনফারেন্সের বায়ো-র জন্য - যেখানে একটা পরিষ্কার, পেশাদার ছবি দরকার কিন্তু স্টুডিও শুটের বাজেট নেই।
অ্যাপ অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করে না। কোনও সেলুনের সঙ্গে এর যোগ নেই, আর কোনও নির্দিষ্ট পার্লারের সুপারিশও করে না।
অ্যাপ আপনার চুল ছুঁয়ে দেখতে পারে না। ব্লিচ নেওয়ার মতো অবস্থা আছে কি না, স্ক্যাল্পে সমস্যা আছে কি না, আগের কেরাটিন কতটা বসে আছে - এসব শুধু স্টাইলিস্টই বলতে পারবেন।
আর প্রিভিউ একটা আন্দাজ, প্রতিশ্রুতি নয়। আপনার কার্ল প্যাটার্ন, চুলের গ্রোথ ডিরেকশন আর ঘনত্ব আসল ফলকে অন্যরকম করে দিতে পারে।
একটা সেলফি তুলুন, ১০০-র বেশি চুলের স্টাইল আর প্রায় ২০টা রং নিজের মুখে বসিয়ে দেখুন। পছন্দ না হলে ছবিটা মুছে দিন - চুল কাটা হয়ে গেলে সেই সুযোগ আর থাকে না।
Visio AI বিনামূল্যে ব্যবহার করা যায়, সঙ্গে ঐচ্ছিক Visio Pro সাবস্ক্রিপশন। অ্যাপ ছবির উপর প্রিভিউ দেখায় - এটি অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করে না, আর স্টাইলিস্টের সরাসরি পরামর্শের বিকল্পও নয়।