এয়ারটাচ কৌশলটা কী?
কালারিস্ট চুলের একটা গোছা তুলে ধরে তাতে ব্লো-ড্রায়ারের হাওয়া দেন। হাওয়ায় ছোট, নতুন গজানো আর দুর্বল চুলগুলো উড়ে গোছা থেকে বেরিয়ে যায়, আর হাতে থেকে যায় শুধু লম্বা, সমান দৈর্ঘ্যের চুল।
সেই অবশিষ্ট চুলেই লাইটেনার লাগানো হয়, সাধারণত গোড়া থেকে কিছুটা নিচ থেকে শুরু করে। ফলে রংটা এমন চুলে বসে যেগুলো একই দৈর্ঘ্যের, আর রূপান্তরটা অস্বাভাবিক রকম মসৃণ হয়।
নামটা এখান থেকেই - বাতাসই এখানে বাছাইয়ের কাজটা করে। এটা তুলনামূলকভাবে নতুন কৌশল এবং কলকাতার সব সেলুনে পাওয়া যায় না।
মূল যুক্তিটা সরল: ছোট চুলে রং লাগলে গোড়ার কাছে দাগ তৈরি হয়। সেগুলো সরিয়ে দিলে সেই দাগটাই আর তৈরি হয় না।
অন্য কৌশলগুলোর চেয়ে এটা আলাদা কেন?
ফয়েল হাইলাইটসে গোছার সব চুলে রং বসে, তাই গোড়া থেকে শুরু হলে স্পষ্ট রেখা তৈরি হয়। বালায়াজে হাতে ব্রাশ দিয়ে উপরিভাগে রং লাগানো হয়, তাই ভিতরের চুল কম রং পায়।
এয়ারটাচে গোছাটা আগেই পরিষ্কার করে নেওয়া হয়, ফলে রং সমানভাবে বসে অথচ শুরুবিন্দুটা নরম থাকে। ফলাফল বালায়াজের চেয়েও মসৃণ রূপান্তর, কিন্তু হাইলাইটসের মতো সমান রং।
শাতুশের সঙ্গেও তফাত আছে: শাতুশে ব্যাককম্বিং করে নিয়ন্ত্রণটা আংশিকভাবে ছেড়ে দেওয়া হয়, এয়ারটাচে ঠিক উল্টো - নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো হয়।
এর দাম সময়ে। প্রতিটা গোছা আলাদা করে ড্রায়ার দিয়ে পরিষ্কার করতে হয়, তাই পুরো মাথায় এয়ারটাচ করতে সাধারণ হাইলাইটসের চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগে - কয়েক ঘণ্টার ব্যাপার।
কালো চুলে ফল কেমন হয়?
লাইটেনিংয়ের সীমা এখানেও একই: ভারতীয় চুল লেভেল ১-৩, আর এক সেশনে দেড় থেকে তিন লেভেল ওঠে। এয়ারটাচ কৌশল সেই গণিত বদলায় না।
যা বদলায় তা হল দেখতে কেমন লাগে। গাঢ় গোড়া থেকে হালকা লম্বায় রূপান্তরটা এত নরম হয় যে ক্যারামেল বা তামাটে ফলও অনেক বেশি ইচ্ছাকৃত আর পরিশীলিত লাগে।
ব্লন্ড ফল চাইলে দুই থেকে তিনটে সেশন লাগবে, প্রতিবার একই দীর্ঘ প্রক্রিয়া সহ। সময় আর খরচ দুটোই গুণ হয়ে যায়, আর এটা আগে থেকে জেনে যাওয়া দরকার।
কলকাতায় খরচ আর টাচ-আপ?
যে সেলুনগুলো এয়ারটাচ করে, সেখানে এটা সাধারণত বালায়াজের সমান বা তার উপরে দামে পড়ে - কলকাতায় বালায়াজ ₹৫,০০০ থেকে শুরু, আর অতিরিক্ত সময়ের কারণে এয়ারটাচ প্রায়ই তার চেয়ে বেশি।
বুকিংয়ের সময় দুটো জিনিস নিশ্চিত করে নিন: সেলুনে এই কৌশলটা আসলে করা হয় কি না, আর কত ঘণ্টা লাগবে। কয়েক ঘণ্টার অ্যাপয়েন্টমেন্ট আন্দাজ না করে গেলে দিনটা এলোমেলো হয়ে যায়।
রক্ষণাবেক্ষণে এটা সবচেয়ে সাশ্রয়ী কৌশলগুলোর একটা। রূপান্তর এত নরম যে চুল বাড়লেও রেখা তৈরি হয় না - চার থেকে ছয় মাসে একবার গেলেই চলে।
মাঝপথে যা লাগতে পারে তা হল টোনার, কারণ লাইটেন করা অংশ ধীরে ধীরে উষ্ণ হয়ে ওঠে। গ্লস বা টোনিং সেশন পূর্ণ কালারের চেয়ে অনেক সস্তা।
এটা কার জন্য উপযুক্ত?
যাঁদের চুল লম্বা আর মোটামুটি সমান দৈর্ঘ্যের, তাঁদের জন্য এয়ারটাচ সবচেয়ে ভালো কাজ করে - কারণ কৌশলটাই লম্বা সমান চুলের উপর নির্ভরশীল।
খুব ছোট চুলে বা প্রচুর লেয়ার করা চুলে এটা কম কার্যকর, কারণ ড্রায়ারের হাওয়া দিয়ে বাছাই করার মতো যথেষ্ট দৈর্ঘ্যের তফাত থাকে না। সেক্ষেত্রে কালারিস্ট সাধারণত বালায়াজের পরামর্শ দেবেন।
যাঁরা সেলুনে ঘন ঘন যেতে পারেন না অথচ রঙিন চুল চান, তাঁদের জন্য এটা যুক্তিসঙ্গত বিনিয়োগ - একবারে বেশি সময় আর টাকা, তারপর কয়েক মাসের নিশ্চিন্তি।
Visio AI-তে নিজের সেলফিতে নরম রূপান্তরের বিভিন্ন মাত্রা বসিয়ে দেখে নিয়ে ঠিক করতে পারেন আপনি কতটা বৈপরীত্য চান। সেই স্পষ্টতাটা নিয়ে সেলুনে গেলে কয়েক ঘণ্টার অ্যাপয়েন্টমেন্টটা ভুল দিকে যাওয়ার ঝুঁকি অনেক কমে।
সাধারণ প্রশ্ন
এয়ারটাচে ড্রায়ার কেন লাগে?
হাওয়ায় গোছার ছোট আর দুর্বল চুলগুলো উড়ে বেরিয়ে যায়, তাই রং শুধু লম্বা সমান চুলে বসে। এতে গোড়ার কাছে দাগ তৈরি হয় না আর রূপান্তর মসৃণ হয়।
এয়ারটাচ আর বালায়াজে কোনটা ভালো?
এয়ারটাচে রূপান্তর বেশি মসৃণ আর রং বেশি সমান, কিন্তু সময় আর খরচ বেশি। বালায়াজ দ্রুত এবং প্রায় সব সেলুনে পাওয়া যায়।
কত সময় লাগে?
প্রতিটা গোছা আলাদা করে পরিষ্কার করতে হয় বলে সাধারণ হাইলাইটসের চেয়ে অনেক বেশি - কয়েক ঘণ্টার ব্যাপার। বুকিংয়ের সময় সময়টা জেনে নিন।
কলকাতায় খরচ কত?
যেখানে পাওয়া যায় সেখানে বালায়াজের সমান বা তার উপরে - বালায়াজ ₹৫,০০০ থেকে শুরু, আর অতিরিক্ত সময়ের কারণে এয়ারটাচ প্রায়ই বেশি।
ছোট চুলে করা যাবে?
কম কার্যকর, কারণ ড্রায়ার দিয়ে বাছাই করার মতো যথেষ্ট দৈর্ঘ্যের তফাত থাকে না। ছোট বা বেশি লেয়ার করা চুলে বালায়াজ বেশি উপযুক্ত।
টাচ-আপ কতদিন পরপর?
চার থেকে ছয় মাস, কারণ রূপান্তর এত নরম যে গ্রো-আউট রেখা তৈরি হয় না। মাঝে শুধু টোনার লাগতে পারে।

